⚖️ হত্যা মামলার ঘটনাস্থলে কি কি আলামত থাকতে পারে?

  • Author: MD Sirajul Islam Inspector of Police
  • Published: 1 year ago
  • Category: অপরাধ বিজ্ঞান
মামলার তদন্তকারী অফিসারকে ঘটনাস্থলে পৌছে সর্বপ্রথম ঘটনাস্থটি সংরক্ষিত করতে হয় এবং চারদিক হতে বেষ্টনী দিয়ে অবাঞ্চিত আগন্তক ব্যক্তিদের চলাচল প্রতিরোধ করতে হয়। কেউ যেনো ঘটনাস্থলের কোনো আলামত নষ্ট করতে বা সরায়ে নিতে না পারে। যে আলামত যেখানে থাকে, সে আলামত সেখানে রেখেই সংরক্ষণ ও সংগ্রহ করতে হয়। তদন্তকারী অফিসার প্রথমেই মৃত দেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে ময়না তদন্ত করার জন্য লাশ মর্গে প্রেরণ করবেন। মৃত দেহের সাথে প্রাপ্ত রক্তাক্ত জামা-কাপড় ও অন্যান্য পরিধেয় বস্ত্র এবং ব্যবহৃত বস্তুসহ নিম্নলিখিত সম্ভাব্য আলামত ঘটনাস্থলে ও তার আশে-পাশে অন্বেষণ করে তা জব্দ করবেন। 

(১) রক্তাক্ত মাটি বা লতাপাতা,

(২) আঙ্গুলের ছাপ, 

(৩) পায়ের ছাপ, 

(৪) জুতার দাগ বা ছাপ,

(৫) জুতা বা স্যান্ডেল,

(৬) রং বা তরল কোনো পদার্থ,

(৭) আগ্নেয়াস্ত্র,

(৮) ধারালো অস্ত্র বা ভোতা অস্ত্র,

(৯) জমাট বাধা রক্ত,

(১০) ধস্তা-ধস্তির স্থানের ঘাস বা লতা-পাতা,

(১১) চুল, পশম বা আঁশ, 

(১২) কাচ বা ভাঙ্গা কাচের টুকরা,

(১৩) অতি ক্ষুদ্র কোনো পদার্থ,

(১৪) চামড়া বা খন্ডিত মাংস,

(১৫) গুলি, গুলির খোসা বা কার্তুজ,

(১৬) কামরের দাগ, দাঁত,

(১৭) রক্তমাখা কোনো অস্ত্র,

(১৮) শ্বাসরোধ করে হত্যার ক্ষেত্রে বালিশ ইত্যাদি। 

(১৯) ফাঁসি দিয়ে হত্যার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত রশি বা দড়ি বা কাপড় ইত্যাদি। 

(২০) বিষ প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিষের পাত্র,

(২১) গ্যাস প্রয়োগের ক্ষেত্রে গ্যাস কনটেইনার,

(২২) আগুন লেগে হত্যার ক্ষেত্রে পেট্রোল, কেরোসিন তেলের পাত্র, গ্যাস লাইটার ইত্যাদি। 

(২৩) দিয়াশলাই,

(২৪) সিগারেটের পোড়া অংশ,

(২৫) অপরাধীর ফেলে যাওয়া লাঠি, ছাতি, টুপি, মাফলার, জামা, আংটি, ঘড়ি, গলার চেইন অথবা লকেট, ব্যবহৃত দস্তানা ইত্যাদি।

 

উপরোল্লিখিত আলামতগুলি আদালতে মামলা প্রমাণের ক্ষেত্রে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে। এগুলি বস্তুসাক্ষ্য। তদন্তকারী অফিসার সঠিকভাবে সংগ্রহ ও সংরক্ষণের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন সহ আদালতে উপস্থাপন করতে পারলে মামলার ন্যয় বিচার সুনিশ্চিত। কাজেই এ ধরণের আলামত ঘটনাস্থলে পাওয়া গেলে তা নষ্ট না করে যত্নসহকারে সংরক্ষণ ও সংগ্রহ করার প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। এ আলামতগুলি প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে অপরাধী সনাক্ত করা খুব সহজ হয়।