⚖️ অস্বাভাবিক মৃত্যু বা অপমৃত্যু কি?

  • Author: MD Sirajul Islam Inspector of Police
  • Published: 1 year ago
  • Category: অপরাধ বিজ্ঞান

মৃত্যুকে প্রধানত দুইটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-

(১) স্বাভাবিক মৃত্যু এবং

(২) অস্বাভাবিক মৃত্যু বা অপমৃত্যু। 

 

অস্বাভাবিক মৃত্যু বা অপমৃত্যু আবার তিন ধরণের। যথা-

(১) হত্যামূলক,

(২) আত্মহত্যামূলক,

(৩) দুর্ঘটনামূলক। 

অর্থাৎ যে মৃত্যু স্বাভাবিকভাবে না হয়ে প্রকৃতির নিয়োমের বাহিরে হয় তাহাই অস্বাভাবিক মৃত্যু বা অপমৃত্যু। কেউ যদি শত্রুতাবশত কাউকে হত্যা করে, কেউ যদি নিজের মনের দুঃখে নিজ উদ্যোগে আত্মহত্যা করে এবং কেউ যদি কোনো দুর্ঘটনায় কবলিত হয়ে মৃত্যুবরণ করে, তবে সেসকল মৃত্যুর ক্ষেত্রেই অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে থাকে। অর্থাৎ অপমৃত্যু হয়। 

 

অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে তদন্তকারী অফিসারকে নিম্নলিখিত বিষয়গুলির প্রতি গুরুত্বারোপ করতে হয়। 

(১) ঘটনাটি হত্যামূলক, আত্মহত্যামূলক না দুর্ঘটনামুলক সে বিষয়ে সঠিকভাবে তদন্ত করতে হবে। পোস্ট মর্টেম রিপোর্টে হত্যামূলক মতামত পাওয়া গেলে এবং তদন্তকালে যদি প্রমাণ পাওয়া যায় যে, খুন করার জন্যে ঐ ঘটনা সংঘটন করা হয়েছে, তবে উহা খুন বা হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে।

(২) ফাঁসিতে, বিষপানে কিংবা পানিতে ডুবে মারা গেছে কিনা সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে।

 

ফাঁসিতে মৃত্যুর ক্ষেত্রে প্রধান প্রধান উপসর্গঃ 

(১) চেহারা সাধারণত বিবর্ণ এবং মুখমন্ডল শান্ত দেখাবে। 

(২) ঠোট, নখ, চামড়ায় নীলবর্ণ বা কালশিরা দেখা যাবে। 

(৩) চক্ষুদ্বয় অর্ধখোলা বা বাহিরে আসতে চাইবে এবং চোখের মনি প্রসারিত থাকবে। 

(৪) জিহ্বা দাঁতের মধ্য দিয়ে বাহির হতে চাইবে বা দাঁত দিয়ে চাপা থাকবে।  

(৫) থুতনি ও বুকের উপর সোজাসুজিভাবে  লালা গড়ায়ে পড়বে। 

(৬) চোখ তাকানো বা খোলা এবং লাল দেখাবে।

(৭) পায়ের বৃধ্যাঙ্গুলি নিম্নমুখি থাকবে। 

(৮) কান হতে রক্ত নির্গত হতে পারে। 

(৯) যৌনাঙ্গে উত্তেজনার ভাব দেখা যাবে। 

(১০) মলমূত্র এবং বীর্য নির্গত হতে পারে।  

(১১) হাতের আঙ্গুল অর্ধ মূষ্টিবদ্ধ থাকবে।

(১২) গলার ডান দিকে অর্ধ চন্দ্রাকৃত রশির দাগ থাকবে।

(১৩) ঘাড়ে রশির গিটের দাগ দেখা যাবে। 

(১৪) ফাঁসির রশির উভয় পার্শ্বে এনসাইমোসিস বেশ স্পষ্ট থাকে।